লিভার পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপায়।

লিভার পরিষ্কার করার ঘরোয়া উপায়।

লিভারের নোংরা ২৪ ঘন্টায় একেবারে পরিষ্কার করতে এই ফলটি নিয়মিত খাবেন। যেকোনো মুদির দোকানে পাওয়া যায় এই ফলটি। একসময় বলা হতো এই ফলটি খেলে রক্ত পানি হয়ে যায় এখনও অনেকে এই ফলের ব্যাপারে বলে থাকেন এটি খেলে শক্তি কমে যায় কিন্তু অধিকাংশ মানুষই জানেন না এই ফলটির গুনাগুন কত বেশি। এ জন্যই আজ সুনির্দিষ্টভাবে জানাবো যে এই ফলটি খেলে কি কি উপকার হয়। আশা করি আপনারা ইতিমধ্যে বুঝে গেছেন আমি কোন ফলটির কথা বলছি এবং এই ফলটি কোন এক সময় মুরুব্বী শ্রেণীর মানুষরা বলতেন এই ফল খেলে জ্ঞান বুদ্ধি লোপ পায় মানুষের রক্ত পানি হয়ে যায়।

প্রিয় পাঠক আমি তেতুলের কথাই বলছি । অথচ বর্তমান বিজ্ঞান গবেষণা করে দেখেছে তেঁতুলে রয়েছে উচ্চ মানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আয়রন ক্যালসিয়াম পটাশিয়াম ম্যাঙ্গানিজ ডায়েটারি ফাইবার এবং সেই সঙ্গে রয়েছে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আপনার হাত-পা অসহ্য ব্যথা হলে আপনি তেতুল পানি খেতে পারেন এতে আপনার জালাপোড়া দুর হবে এবং ব্যাথাও কমে যাবে তেঁতুলে রয়েছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স।

মজার ব্যাপার এই ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এমন একটি ভিটামিন যা ব্রেন ফাংশনের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিন শরীরের প্রবেশ করা মাত্রই নার্ভ সেল এর শক্তি বাড়াতে শুরু করে ফলে স্বাভাবিক ভাবেই কগনিটিভ ফাংশন এর উন্নতি ঘটায়। ভেষজ চিকিৎসা থেকে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের সব ক্ষেত্রেই এ কথা প্রমাণিত যে তেতুল খেলে হার্ট ভালো থাকে এর কারণ হচ্ছে এতে উচ্চমাত্রার ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে যা ব্লাড প্রেসার কে পরিপূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণ করে। তেতুলের সবচেয়ে বড় উপকারিতা টা হচ্ছে আমাদের লিভারকে পরিষ্কার রাখে কিডনিকে পরিষ্কার রাখে। এবং আপনার কিডনিকে কোনভাবে ইনফেক্টেড হতে দেবেনা তেঁতুলের পানি।

শুধু তাই নয় তেতুল গাছের পাতা ও চাল একই রকম ঔষধি গুণসম্পন্ন এতে রয়েছে অ্যান্টিসেপ্টিক এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান যা ক্ষত সারিয়ে তুলতে দারুন কাজ করে। তেতুল খেলে লিভারের পাশাপাশি কিডনি ভালো থাকে কিডনি ফেইলিওর হওয়ার ঘটনা কখনোই ঘটবে না যদি আপনি সঠিক নিয়মে তেতুল খান। এছাড়া ক্যান্সার রোধ করতে সাহায্য করে এই তেতুল। যারা ওজন কমাতে চান তারা অবশ্যই তেঁতুল খাবেন ওজন কমাতে তেঁতুলে থাকা ফ্লাভোনয়েডের উপস্থিতি কাজ করে। এছাড়া তেতুলে উপস্থিত হাইড্রোক্সাইড অ্যাসিড কমিয়ে দেয়।তেতুলে উচ্চমাত্রার ফাইবার রয়েছে এবং এই ফাইবার সম্পূর্ণ ফ্যাট ফ্রি তাই ওজন কমাতে চাইলে তেতুলের বিকল্প কিছুই হয় না। যাদের আলসার রয়েছে বা যারা পেপটিক আলসারে ভুগছেন তাদের জন্য তেঁতুল এবং তেঁতুলের বিচি খুবই উপকারী।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা তথ্য হচ্ছে তেতুলের বীজের গুঁড়ো সঠিকভাবে খাওয়া গেলে পেপটিক আলসার ভালো হয়ে যায়। এজন্য তেঁতুল বীজের গুঁড়ো হাফ চামচ করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল বেলা খেতে হবে এরকম তিন দিন খেতে পারলে পেপটিক আলসার ভালো হয়ে যাবে। আপনি গুড়ো করতে না পারলে তেতো সাদ উপেক্ষা করে যদি চিবিয়ে খেতে পারেন তাতেও উপকার পাবেন তবে সবাই এত শক্ত বিচি চিবিয়ে খেতে চায় না।

কিভাবে তেতুল খেলে উপকার পাবেন।

তেঁতুল খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি না জানলে তেতুল খেলে উপকার তো পাবেনই না উল্টো অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মনে রাখবেন দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ গ্রামের বেশি তেঁতুল খাওয়া যাবে না। হিসেবে একটা তেতুলের আটিতে ৪ ভাগের এক ভাগের মধ্যে ১০ গ্রাম তেতুল থাকে। তেতুল পাকা অবস্থায় খেতে হবে মনে রাখবেন আধা পাকা কাঁচা তেঁতুল কখনোই খাবেন না। যত প্রকারের উপকারের কথা বললাম সেটা শুধু পাকা তেঁতুলে রয়েছে মনে রাখবেন তেতুল যত পুরনো হয় এর ভেষজ গুনাগুন তত বেশি বৃদ্ধি পায় প্রথমে পরিমানমতো নিন অর্থাৎ ১০ গ্রাম পরিমাণে তেতুল ভালো করে ধুয়ে নিন এরপর পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ এক কাপ পানিতে তেঁতুল ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। নরম হয়ে গেলে এর শক্ত আশ এবং বিজ আলাদা করুন। এরপর ভালো করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন এভাবে আপনার তেতুল শরবত প্রস্তুত হয়ে যাবে।

তেতুল পানি কখন খাবেন।

অবশ্যই তেঁতুল খেতে হবে খাবারের পরে সবচেয়ে ভালো হয় দুপুরে খাওয়ার পরে খাবেন। মনে রাখবেন খাবার খেয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলবেন না কমপক্ষে ১৫ মিনিট থেকে আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করে তার পরে তেঁতুল খাবেন। তবে আপনি চাইলে এর সঙ্গে আখাই গুড় মিক্স করতে খেতে পারেন যদি আপনার ডায়াবেটিসের সমস্যা না থাকে। কেননা তেতুলের সাথে আখাই গুড় মিক্স করলে উপকারিতা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। মনে রাখবেন সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিনের বেশি তেঁতুলের পানি খাবেন না। অর্থাৎ তেঁতুলের পানি ধারাবাহিকভাবে খাওয়া ভালো নয়। 

ইনশাল্লাহ সঠিক নিয়মে তেতুল পানি খেলে আজীবন সুস্থ থাকতে পারবেন।

আর্টিকেল টি যদি আপনার ভাল লাগে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

أحدث أقدم