ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ ২০২২। দালাল ছাড়া ই পাসপোর্ট করার নিয়ম।

ই-পাসপোর্ট

ই পাসপোর্ট করার নিয়ম কোথায় করবেন কি কি ডকুমেন্ট লাগবে । বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া অথবা শিক্ষার জন্য যেকোনো দেশে যেতে পাসপোর্ট বাধ্যতামুলক। ই-পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া অনেকের কাছে বেশ জটিল মনে হলেও আসলে খুব একটা জটিল কিছু নয় বর্তমানে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। তাই আগের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট এখন আর নেই। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের সামনে খুব সহজ করে তুলে ধরবো ই-পাসপোর্ট করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া।


ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে।

  • পাসপোর্ট ফি জমা দিতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট রেডি করতে হবে।
  • পাসপোর্ট আবেদন ফরম নিতে হবে ।
  • পাসপোর্ট ফরম পূরণ করতে হবে।
  • পাসপোর্ট ফরম এবং সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট সত্যায়িত করতে হবে।
  • আবেদন ফরম পাসপোর্ট অফিসে শশরীরে জমা দিতে হবে।
  • পাসপোর্ট এর ডেলিভারি স্লিপ সংগ্রহ করতে হবে।
  • পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে হবে।
  • পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে।
  • পাসপোর্টের ফি জমা দেওয়া।

পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে প্রথম কাজ শুরু হয় পাসপোর্ট এর ব্যাংক ড্রাফট করা বা ফি জমা দেওয়ার মাধ্যমে। পাসপোর্ট ফি দুই ভাবে জমা দেওয়া যায় আপনি যদি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আবেদন করতে চান তাহলে ফি জমা দিতে হবে ব্যাংকে। যদি আপনি সরাসরি অনলাইন থেকে আবেদন করতে চান সে ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া শেষে পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার অপশন আসবে পাসপোর্ট ফি বা খরচ কত তা নির্ধারণ করে কত দিনের ভিতর পাসপোর্ট নিতে চান তার উপর পাসপোর্ট ফি প্রদান করতে হবে।

ব্যাংকে ফি জমা দেওয়া।

সশরীরে পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে অফিস নির্ধারিত ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দিতে হবে সেখান থেকে ব্যাংক ড্রাফট সংগ্রহ করতে হবে। ব্যাংক ড্রাফটের অবশ্যই প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক ড্রাফটি পাবেন আপনি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখবেন-যে জেলা বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করবেন সে আলাকাই ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার চেষ্টা করবেন।
আপনার ন্যাশনাল আইডি এবং সার্টিফিকেট জন্ম নিবন্ধন কিভাবে নাম লেখা রয়েছে সেই ভাবে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার সময় এ কিভাবে লিখবেন।
ব্যাংকের আপডেট মানি রিসিটের ট্রানজেকশন নাম্বারটি কোথাও লিখে রাখুন।

ব্যাংক রিসিপে কিছু নির্দেশনা দেয়া থাকে যা পরবর্তী পাসপোর্ট এর ফরম এর জন্য কাজে লাগবে তাই নিচের নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করুন।

পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য।
আমাদের অনেকেই মনে করে দালাল ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা না দিয়ে পাসপোর্ট করা যায় না ঝামেলা হয় এই কথাগুলো পুরোপুরি সঠিক নয় বর্তমানে হয়রানির হার অনেকটাই কমে গেছে।
কোন মাধ্যম ছাড়া নিজে নিজেই পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই হাতে সময় নিয়ে পাসপোর্ট এর কাজ শুরু করবেন। জরুরি প্রয়োজনে নিজে না করে অন্য কারো সাহায্য নিয়ে পাসপোর্ট করতে পারেন।
পাসপোর্ট এর আবেদন ফরম ফিলাপ করার আগে এবং ফিলাপ করার পরে ভালোভাবে সবগুলো তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনে ফরমটি একটি ফটোকপি করে সংগ্রহ করে রাখবেন। এরপর পাসপোর্ট অফিসে জমা দিবেন।
পাসপোর্ট এর ফরম পাসপোর্ট অফিসে জমা দেয়ার সময় প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর মূলকপি সঙ্গে নিয়ে যাবেন।

অনলাইন থেকে পাসপোর্ট এর ফরম ডাউনলোড করে প্রিন্ট করার ক্ষেত্রে সেই জের উভয় দিকেই প্রিন্ট করতে হবে যাহাতে লেখা ফরম্যাট এর মত হবে এই ক্ষেত্রে একটা ফরমেট অনলাইনে দেখে নিতে পারেন।
স্পোর্ট অফিস সকাল 9 টা থেকে দুপুর 1 টা 30 মিনিট পর্যন্ত ফরম জমা নেয় তবে অবশ্যই আগে আগে পাসপোর্ট অফিসে চলে যাবেন এবং লাইনে দাঁড়িয়ে পাসপোর্ট এর ফরম জমা দেবেন।
পাসপোর্ট এর ফর্মে অবশ্যই ঘাম বা আঠা দিয়ে ব্যাংক ড্রাফ বা রিসিট লাগাবেন। পিন বা স্টাপ্লার ব্যবহার করবেন না।

ফরম জমা দেয়ার সময় ছবি তোলার জন্য সাদা রং ব্যতীত অন্য যেকোন রংয়ের জামা কাপড় পরে যাবেন।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় টাকা চাওয়া হয় ঝামেলা এড়াতে চাইলে কিছু টাকা দিয়ে দেওয়াই ভালো যদিও এই টাকা দেওয়াটা কোনভাবেই লিগাল নয়।
যারা নতুন ই-পাসপোর্ট করবেন তারাই শুধুমাত্র অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
আরো বিশেষ বা গুরুত্বপূর্ণ যে কোনো নির্দেশনা জানার জন্য আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে পারেন। অথবা ভিজিট করুন www.dip.gov.bd ওয়েবসাইটে।

১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট ফরম।

ই-পাসপোর্ট আবেদন ফরমটি সকল জেলার পাসপোর্ট অফিসের জন্য প্রযোজ্য নয়। এই আবেদন ফর্মটি কেবলমাত্র বাংলাদেশ সচিবালয়ের পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য। আপনি যদি বাংলাদেশ সচিবালয়ে আবেদনের যোগ্য হন, তবে আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করুন, প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য পূরন করুন এবং তালিকাভুক্তির জন্য উপস্থাপন করুন।

Passport application




যে সকল ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি জমা দেয়া যায়।

  • সোনালী ব্যাংক
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক
  • ব্যাংক এশিয়া
  • ঢাকা ব্যাংক
  • ট্রাস্ট ব্যাংক
  • ওয়ান এশিয়া।
মনে রাখবেন সোনালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শাখাতেই পাসপোর্ট ফি জমা দিতে পারবেন।পাসপোর্ট অফিস থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারবেন আর অন্যান্য ব্যাংকের যে কোন শাখায় টাকা জমা দিতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট তৈরি করা।
পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে দরকারি বিষয় হলো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। অধিকাংশ সময় পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার পর দেখা যায় সকল ডকুমেন্ট রেডি করা নেই সে ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু ঝামেলা পোহাতে হয়। এবং পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে দেরি হয়ে যায় তাই পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগেই সকল ডকুমেন্ট ঠিকঠাক আছে কিনা চেক করে নিন যেসব ডকুমেন্ট লাগবে পাসপোর্ট করার জন্য নিম্নে দেওয়া হল।
পাসপোর্ট ফরম 2 কপি তবে সরকারি চাকরিজীবী বা তাদের পরিবারের ক্ষেত্রে বা সন্তানদের ক্ষেত্রে 15 বছরের কম বয়সী সন্তানদের ক্ষেত্রে একটি ফর্ম।
ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ডের সত্যায়িত কপি বর্তমানে ন্যাশনাল আইডি কার্ড ছাড়া পাসপোর্ট করা সম্ভব নয়।

সরকারি কর্মচারী চাকরিজীবী বা তাদের স্ত্রী সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকুরীজীবী ব্যক্তির কর্মস্থল থেকে ইস্যু করা এনওসি (No Objection Certificate) বা জিও (Government Order) জমা দিতে হবে।


পাসপোর্ট এর আবেদন ফরম পূরণ।
দুই ভাবেই পাসপোর্টের জন্য আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন পাসপোর্ট ফরম ডাউনলোড বা যে কোথাও থেকে অথবা পাসপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করে হাতে লিখে পূরণ করতে হবে অথবা অনলাইনে তথ্য পূরণ করে নিতে হবে।

অনলাইন থেকে পাসপোর্ট ফরম টি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন www.passport.gov.bd এই ওয়েবসাইট থেকে ফরমটি পিডিএফ ফরমেটে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে হবে।
পাসপোর্ট অফিসের ফরম জমা দেওয়া।
পাসপোর্ট অফিসের ফরম জমা দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি যে ফর্মটা জমা দিতে হবে। আঞ্চলিক পাসপোর্ট
অফিসে গিয়ে প্রথমে আপনাকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিতে হবে এরপর পাসপোর্ট এর ফরম জমা নেয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম জমা দিতে হবে।
পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপ সংগ্রহ।




পাসপোর্ট ফরম জমা দেয়ার শেষ হলে এবং ছবি তোলা শেষ হলে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেয়া হবে। ডেলিভারি স্লিপে দেয়া তথ্যগুলো সম্পূর্ণ যাচাই করুন কোথাও কোন ভুল থাকলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেটি সংশোধন করা যাবে এরপরে সংশোধন করার ক্ষেত্রে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় সুতরাং তৎক্ষণাৎ সকল তথ্য যাচাই করে পাসপোর্ট অফিস থেকে বের হবেন।আর এই পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপটি যত্নসহকারে সংগ্রহ করে রাখুন আপনি যখন পাসপোর্ট আনতে যাবেন অফিস থেকে তখনো স্লিপটি সঙ্গে রাখুন।

ই পাসপোর্ট চেক।

পাসপোর্ট অনলাইনে চেক করার জন্য www.passport.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে application status অপশন থেকে চেক করতে পারবেন সেখানে আপনার পাসপোর্ট এর ফরম এর সিরিয়াল নাম্বার অথবা ডেলিভারি স্লিপে দেয়া একটি নাম্বার দিয়ে পাসপোর্ট চেক করতে পারবেন পাসপোর্ট এর অবস্থান কোথায়।
অথবা আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন MRP>EID NO লিখে 6969 এই নাম্বারে সেন্ড করুন এবং ফিরতি মেসেজে আপনার পাসপোর্ট এর স্ট্যাটাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।
পুলিশ ভেরিফিকেশন।
পাসপোর্ট ফরম জমা দেয়ার কিছুদিন পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার বাসায় পুলিশ আসতে পারে অথবা আপনাকে ফোন করে থানায় ডাকতে পারে সেই ক্ষেত্রে বিভিন্ন কাগজপত্র রেডি করে রাখতে হবে যেমন প্রপার্টি পেপার বিদ্যুৎ বিল আনুষাঙ্গিক ডকুমেন্ট।
পাসপোর্ট সংগ্রহ।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আপনার পাসপোর্ট এর ধরন অনুযায়ী 21 দিন দশ দিন অথবা দুই দিন যেভাবে আপনি পাসপোর্ট করতে দিয়েছেন সে অনুযায়ী পাসপোর্ট রেডি হোলে মোবাইলে ম্যাসেজ আসবে এবং আপনি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।

ই-পাসপোর্ট ফি।


e-Passport fees for inside Bangladesh (Including 15% VAT)


e-Passport with 48 pages and 5 years validityRegular delivery: TK 4,025
Express delivery: TK 6,325
Super Express delivery: TK 8,625


e-Passport with 48 pages and 10 years validityRegular delivery: TK 5,750
Express delivery: TK 8,050
Super Express delivery: TK 10,350


e-Passport with 64 pages and 5 years validityRegular delivery: TK 6,325
Express delivery: TK 8,625
Super Express delivery: TK 12,075


e-Passport with 64 pages and 10 years validityRegular delivery: TK 8,050
Express delivery: TK 10,350
Super Express delivery: TK 13,800

পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে।

খুব সহজেই বলা যায় ই পাসপোর্ট করতে লাগে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন সনদপত্র, নাগরিক সনদ, পেশা প্রমাণের কাগজ এগুলোই লাগে।


বিশেষ দ্রষ্টব্য: সরকারি চাকরিজীবী ও তাদের স্ত্রী সন্তানদের ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ভিডিও জরুরী সুবিধা পাওয়া যাবে সাধারণ পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে ২১ দিনের ভিতরে হয়ে যাবে বলা হলেও অনেক সময় তার চেয়েও বেশি সময় লাগে। তবে জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কয়েকদিন সময় বেশি লাগতে পারে।


তথ্য সুত্র ঃ-www.epassport.gov.bd
Doridro IT

Hello Friends, My Name Is Mohammad Ismail. Welcome To The DoridroIT Website.

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন