দোয়া কবুলের সময় ও দেরিতে ঘুমালে কি হয়..?

সব সময় আল্লাহ তাআলা দোয়া কবুল করেন। তবে হাদিসে কিছু বিশেষ সময়ের কথা উল্লেখ রয়েছে, যখন দোয়া করলে কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

শেষ রাতে দোয়া করলে কবুল হয়।


আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘মহান আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ প্রহরে (যখন রাতের এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে) দুনিয়ার আকাশে অবতরণ করেন। তিনি তখন বলেন, ‘আছ কি কোনো আহ্বানকারী? আমি তোমার ডাকে সাড়া দেব। কোনো প্রার্থনাকারী কি আছো, আমি তোমাকে যা চাও তা দেব? কেউ কি ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৫৮)

সিজদার সময় দোয়া।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘সিজদারত বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং সে সময় বেশি বেশি দোয়া করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৮২)

আজানের সময় দোয়া।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয় আসমানের দোয়ার খুলে যায় ও দোয়া কবুল হয়’ (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, হাদিস : ১৮৮৪)

আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে দোয়া।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২১২)

ফরজ নামাজের পর দোয়া।

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! কোন সময়ের দোয়া দ্রুত কবুল হয়? তিনি উত্তর দিলেন, ‘রাতের শেষ সময়ে এবং ফরজ নামাজের পর।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৯৮)

জুমার দিন দোয়া কবুল হয়।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবুল কাসিম (সা.) বলেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যদি সে মুহূর্তটিতে কোনো মুসলিম দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে, আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণের জন্য দোয়া করলে তা আল্লাহ তাকে দান করবেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৪০০; মুসলিম, হাদিস : ১৪০৭)।

বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হয়।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘দুই সময়ের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। আজানের সময়ের দোয়া ও বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের দোয়া।’ (সুনানে আবু দাউদ, সহিহুল জামি, হাদিস : ৩০৭৮)।

রমজান ও শবে কদরের রাত।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে, তার আগের (জীবনের) সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৩৭২)।

রোজাদার ব্যক্তির ইফতারের সময়ের দোয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেয়া হয় না। যখন রোজাদার ব্যক্তি ইফতার করে। ন্যায় পরায়ন শাসক। নির্যাতিত ব্যক্তির দোয়া।’ (মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি)

মুসাফিরের দোয়া।

রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, “তিনটি দোয়া (আল্লাহর দ্বারা) ফিরিয়ে দেয়া হয়না। সন্তানের জন্য পিতামাতার দোয়া, রোজাদার ব্যক্তির দোয়া, মুসাফিরের দোয়া”। (বায়হাকি, তিরমিজি)।

অনুপস্থিত মুসলিম ভাই বা বোনের জন্য অন্তর থেকে উৎসরিত দোয়া।


রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, “এমন কোন বিশ্বাসী বান্দা নেই, যে তার অনুপস্থিত কোন ভাইয়ের জন্য দোয়া করে আর ফেরেশতারা বলে না ‘তোমার জন্যও তা হোক’”। (মুসলিম)।

আরাফাতের দিনের দোয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘দোয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো আরাফাতের দিনের দোয়া।’ (তিরমিজি)।

জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের দোয়া।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল অন্য যে কোনে দিনের আমলের চেয়ে উত্তম।’ (বুখারি)।

আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দোয়া কবুল হওয়ার উত্তম সময়

দেরিতে ঘুমালে কি হয়।

এক ব্যক্তি হযরত ইব্রাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) এর সাথে তর্ক করছিলো যে-

'বরকত' বলতে কিছুই নেই।

তিনি বললেন, তুমি কি ছাগল ও কুকুর দেখেছো?
লোকটি বলল, জি দেখেছি।
শায়খ লোকটিকে জিজ্ঞাসা করলেন-
বলতো কুকুর আর ছাগল এর মধ্যে
কে বেশি বাচ্চা দেয়?
লোকটি বললো, কুকুর।

শায়খ বললেন,
এদের মধ্যে তুমি কোন জন্তুটিকে
বেশি দেখতে পাও, কুকুর না ছাগল?
লোকটি বললো, ছাগল।

শায়খ ইব্রাহিম ইবনে আদহাম (রহঃ) বললেন,
"ছাগলকে জবেহ করা হয়,
এরপর ও ছাগলের সংখ্যায় বেশি দেখা যায়, কমে না।
এটা কি বরকত নয়?

লোকটি বললো, এর কারণ কি..?
ছাগলের মধ্যে বরকত হয়,
আর কুকুরের মধ্যে বরকত হয় না?
শায়খ বললেন, ছাগল সন্ধ্যা হতেই ঘুমিয়ে যায়,
আর ভোরে জাগ্রত হয়,
এই সময়টাই হয় রহমত ও বরকত বর্ষণের মুহূর্ত।
ফলে তার মধ্যে বরকত হয়।

আর কুকুর সারা রাত জাগ্রত থাকে
ফজরের আগে ঘুমায়।
তাই সে বরকত থেকে বঞ্চিত থাকে।

একটু চিন্তার বিষয়,
নবীজি (সঃ) এর সুন্নাত হলো।
এশার নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে যাওয়া।
শেষ রাতে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ পড়া,
কেননা আল্লাহ রাতের শেষ তৃতীয়াংশে
প্রথম আসমানে নেমে এসে
বান্দাদের কে দোয়া করার জন্য।
ক্ষমা চাওয়ার জন্য ডাকতে থাকেন।


আর আমরা?
সারা রাত মোবাইলে, ইন্টারনেটে হারাম কাজে ব্যস্ত থেকে ঠিক এই সময়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
আর ফজরের তো খবরই নেই।

অথচ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন,
ফজরের কেবল দুই রাকাত সুন্নাত সালাত
পৃথিবী এবং এর মধ্যে যা আছে সবকিছুর চাইতে উত্তম, সুবহানআল্লাহ।

তাহলে দুই রাকাত ফরজের কতটা মর্যাদা হতে পারে? এমন অতি মূল্যবান সময় আমরা ঘুমিয়েই কাটিয়ে দেই।

তাহলে আমাদের কাজ কর্মে আল্লাহ বরকত দিবেন কিভাবে..? আবার আমরাই দোয়া করে অস্থির হয়ে যাই আর ভাবি আল্লাহ আমাদের দোয়া কবুল করেন না কেনো..?

তাই আসুন আমরা এখনই নিজেকে পরিবর্তন করি, আল্লাহর বিধান সমূহকে যথাযথভাবে গুরুত্বের সাথে পালন করি। তাহলে আশা করা যায়,

তিনি আমাদের দোয়া কবুল করবেন এবং
কাজকর্মে বরকত দিবেন, ইনশাআল্লাহ।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে
বুঝার তৌফিক দান করুন।

আল্লাহুম্মা আমিন।
Doridro IT

Hey, I am Ismail , Founder of DoridroIT.com Welcome To The DoridroIT Website. facebook youtube instagram twitter

নবীনতর পূর্বতন